ঢাকা সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে স্কুলের গাছ কেটে নিলেন প্রধান শিক্ষক

ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে স্কুলের গাছ কেটে নিলেন প্রধান শিক্ষক

নীলফামারীর জলঢাকায় কোনো টেন্ডার বা কমিটির রেজুলেশন ছাড়াই সিংড়িয়া বালাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা প্রথমে একটি বড় আম গাছ কেটে ফেলেন শ্রমিকরা। পরে পাশে থাকা আরও দুটি আম গাছের গোড়ার মাটি সরিয়ে গাছ কাটার প্রস্তুতিকালে এলাকাবাসীর তোপের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শ্রমিকরা সটকে পড়েন।

এলাকাবাসী জানান, স্কুল বন্ধের দিন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঈদের আগের দিন কাছ কাটায় আমাদের সন্দেহ হলে আমরা প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করি, তিনি আমাদের প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়েই গাছ রেখে সটকে পড়েন। পরদিন শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন কোনো এক সময় কেটে ফেলা বড় আম গাছটি নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়িয়া বালাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্কুলের আসবাবপত্রের জন্য শুক্রবার একটি আম গাছ কেটেছি, তবে সেদিন নিয়ে যাওয়া হয়নি, শনিবার ঈদের দিন গাছটি একটি স'মিলে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছে।”

তবে টেন্ডার বা কমিটির রেজুলেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে, কোনো সদুত্তর না দিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে ওই স্কুলের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের মাধ্যমেন এ প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানান ওই প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের দেওয়া তথ্য মতে ওই স'মিলে গিয়ে শুধুমাত্র গাছের ডাল ছাড়া অন্য কিছুই পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলের গাছ বিক্রি করে নিজের পকেট ভর্তি করতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এমন কৌশল। সঠিক তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান তারা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, “সিংড়িয়া বালাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে আমার নিকট লিখিত কোনো আবেদন করা হয়নি বা মৌখিকভাবেও আমি অবগত নই, অফিস খুললে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে” বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “গত শুক্রবার ওই স্কুলের গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানতে পারি, স্কুলের গাছ না কাটতে আমি তাৎক্ষণিক ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে ফোন করি এবং কেটে ফেলা গাছটি স্কুলেই রাখার নির্দেশ প্রদান করি।”

নিয়ম না মেনে গাছ কাটা এবং নির্দেশ অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, অফিস খোলার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনও,স্কুল,গাছ,প্রধান শিক্ষক
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত