
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণে উৎপাদিত আলু এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তরতবাড়ি গ্রাম থেকে উৎপাদিত ‘সানশাইন’ জাতের আলু ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যায়ক্রমে আরও ১০-১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু বীরগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।
রপ্তানির উপযোগী করে আলু অত্যন্ত যত্নসহকারে বাছাই ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ‘দি এগ্রোনমি ইনিশিয়েটিভ এগ্রো’-এর তত্ত্বাবধানে সাড়ে ৩ কেজি ওজনের কার্টুনে আলু প্যাকিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ৫-১০ কেজি ওজনের ছোট ব্যাগেও আলু প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এই কার্যক্রমে সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম। তার নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণে সফলতা অর্জন করছেন।
তরতবাড়ি পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) এবং জিএপি আলু ও কৃষক সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে কৃষকদের ১০ দিনব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর ফলে কৃষকরা উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে মানসম্মত আলু উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছেন, যা এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। বীরগঞ্জের এই আলু দেশের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দি এগ্রোনমি ইনিশিয়েটিভ এগ্রো এর মালিক সলমা রহমান বলেন, তেল সংকট ও বাজারে আলুর কম দামের কারণে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য পান না। আমরা কৃষকদের পাশে থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি।
কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে আমরা ভালো মানের আলু উৎপাদন করছি এবং কিছুটা লাভবান হচ্ছি। তবে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।