
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুদ ও পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার রোধে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) কর্তৃক আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
একইসাথে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং সীমান্ত ও নৌপথে অবৈধ তেল পাচার রোধ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুদদারি বন্ধ করতে যশোর রিজিয়নের আওতায় সাতটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ২৯টি সীমান্তবর্তী তেল পাম্প পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক রুটে ১ হাজার ১৩১টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। নদীপথেও স্পিডবোটের মাধ্যমে নিয়মিত ৬টি টহল দল সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করছে, যাতে কোনোভাবেই নৌপথ ব্যবহার করে তেল পাচার না হতে পারে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব। তাই দেশবাসীকে কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। একইসাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেল সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।