
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পেট্রোল সংকটের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। পেট্রোলের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় হঠাৎ করে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে সীমিত সংখ্যক চালু পাম্পে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে কর্মজীবী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও পড়েছেন বিপাকে।
পাম্পে শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে পেট্রোল বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। তাদের তত্ত্বাবধানে পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে এত কিছুর পরেও আশানুরূপ ফল আসছে না। এর নেপথ্যে পৃথক কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের মতে, তারা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ পাচ্ছেন না। একবার সরবরাহ পেলে আবারও তাদের দুই-তিন দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সে কারণে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন গ্রাহকদের কাছে পেট্রোল বিক্রি করতে পারছেন না। এ কারণেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অপরদিকে একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ পেট্রোল আসার পর প্রতি মোটরসাইকেলে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত পেট্রোল বিক্রি করছেন। এর কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন দোকানে পেট্রোল বিক্রি করে আবারও তেল সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এটি যেন তাদের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তাই প্রকৃত মোটরসাইকেল চালকেরা মনে করেন, প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল সরবরাহ করা হলে বেশি সংখ্যক গ্রাহক পেট্রোল প্রাপ্তির সুযোগ পেত এবং চাপও অনেকাংশে হ্রাস পেত।
সে সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।