ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

দামুড়হুদায় পেঁয়াজের দামে হতাশ চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারদর হঠাৎ ধসে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বিশেষ করে কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদহ ইউনিয়নের চাষিরা এবার বাম্পার ফলন পেলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চাষ করা পেঁয়াজ এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দামের পতনে সেই হাসি এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা ছিল ঋণ শোধ করে কিছুটা স্বস্তিতে থাকব। কিন্তু বর্তমান দামে খরচই উঠছে না। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।

নাটুদহ ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়াও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের এমন অবস্থা আগে দেখিনি। এত কষ্ট করে চাষ করলাম, কিন্তু বিক্রি করে কিছুই থাকছে না। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫০০ টাকায়। এই দামে বিক্রি করে উৎপাদন খরচও ওঠে না। ফলে অধিকাংশ কৃষক চরম লোকসানে পড়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল সাবাহ্ জানান, দামুড়হুদা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৩৯ হেক্টর জমিতে এবং শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৯০৫ হেক্টর জমিতে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৩৬ মেট্রিক টন।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

গুনতে হচ্ছে লোকসান,পেঁয়াজের দাম,দামুড়হুদা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত