
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাক্ট চেকিং ছাড়া অনুমাননির্ভর কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না। তিনি বলেন, এখন সামাজিক মাধ্যম, ইউটিউব ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নানাবিধ সংবাদ ও তথ্য পরিবেশনের কারণে ফ্যাক্ট চেকিং ছাড়া অনুমাননির্ভর কোনো সংবাদ প্রকাশ কোনোভাবেই ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, পাবনা প্রেসক্লাব দেশের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী। এদের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ক সারা দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিটি জেলায় একটি প্রেসক্লাব রাখার ব্যাপারে বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিএনপি সরকার গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে সেগুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে।
শুক্রবার রাতে পাবনা প্রেসক্লাব-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আক্তারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শিবজিত নাগ, এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, খালেদ হোসেন পরাগ, পাবনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সাংবাদিক রাজিউর রহমান রুমী ও ড. নরেশ চন্দ্র মধু প্রমুখ।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সকল অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও ফ্যাসিবাদের আমলে গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতনের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। আমরা আশাবাদী, সকলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমের ওপর নির্যাতনের যে ইতিহাস তা ফ্যাসিবাদের কর্মকাণ্ডের অংশ। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে গণমাধ্যমের অধিকার ও স্বাধীনতা যারা চর্চা করেছেন, সেই গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতনের অপরাধ আমরা তামাদি হতে দেব না। এই অপরাধ চিহ্নিত করতে আমরা সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।
মতবিনিময় সভায় পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শদ বাবলা, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদসহ বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সন্ধ্যায় শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে আট দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন।
পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের সভাপতিত্বে এবং পাবনা বইমেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার প্রমুখ।