
রাজনৈতিকসহ নানা কারণে উন্নয়ন বঞ্চিত এমন দুই হাজার ৭শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবী বাজার এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর নির্দেশনায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
শুধু নামের কারণে বিদ্যালয়টি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে কোনো ধরনের উন্নয়ন পায়নি। জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ক্লাস-পরীক্ষা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে বলে মনে করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দীর্ঘ বছর উন্নয়ন ও বরাদ্দ বঞ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সে সময় বিদ্যালয়ের ৭০-৮০ শতাংশ খেলার মাঠ দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৫০ শতাংশ খেলার মাঠের জমি থেকে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের নামে ওই জমি দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। সে সময়কার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মিরকাদিম পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দীন জানান, তৎকালীন এমপি এম ইদ্রিস আলী-কে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্কুলে নিয়ে আসা হয়। পরে মাঠে ক্লাব নির্মাণের জন্য জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি আদালতে মামলা করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় স্কুলের ৭০-৮০ শতাংশ জমি দখল করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দিলেও কোনো কাজ হয়নি। টিআর প্রকল্পসহ একটি টাকাও বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ হয়নি। দিন দিন বিদ্যালয়টি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯৪। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাসের হার ভালো।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বছরের পর বছর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও বিদ্যালয়ের অনুকূলে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ২৮ বছর আগে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের আস্তর খুলে পড়ছে, রং নষ্ট হয়ে শেওলা ধরেছে। ফ্লোর ফেটে গর্ত হয়ে গেছে। দরজা-জানালা ও সিঁড়ির রেলিং স্থাপন জরুরি।
বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটি খানা-খন্দে ভরা। এগুলো বালু দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন। এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। তারা নামমাত্র ফি দিয়ে প্রায় বিনা বেতনে পড়াশোনা করে। ফলে বিদ্যালয়ের তহবিলে অর্থের সংকট রয়েছে। আধুনিক শিক্ষার জন্য কম্পিউটার ও ল্যাবের প্রয়োজন রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে কোনো গেইট নেই। গেইট ও প্রাচীর নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে স্কুলের নামে একটি টাকাও বরাদ্দ হয়নি। একের পর এক আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি নতুন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবী বাজার এলাকায় অবস্থিত উন্নয়ন বঞ্চিত শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কিছু স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হবে। অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।