ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বেগমগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ

বেগমগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে দলটির একাংশের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিনকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় ১.১ কিলোমিটার একটি খাল পুনঃখননের কাজ শুক্রবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু।

এতে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হাট-বাজার ইজারা বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন দলের একাংশের নেতাকর্মী-সমর্থকরা।

বিক্ষোভকারীরা কামাখ্যা চন্দ্র দাসের নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের অনিয়ম ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা এ বিষয়টি প্রধান অতিথি বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে জানাতে স্টেজের দিকে যান। অভিযোগ জানানোকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর উপস্থিতিতে কামাখ্যা চন্দ্র দাসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে পোস্টার ও ব্যানারে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ কাজ করে। উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হলে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি এলাকা ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং নিজের দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, দোকান ও সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে কামাখ্যা চন্দ্র দাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে করা কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ,বিএনপি নেতা,বেগমগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত