অনলাইন সংস্করণ
১১:২৭, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু ও বিষু উৎসব শুরু করলেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৭টায় সাঙ্গু নদীতে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করেন। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা নতুন বছরের শুভকামনা জানান।
পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ফুল বিজু’। বাংলা নববর্ষের আগের দিন এই ফুল বিজুর মধ্য দিয়েই শুরু হয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
এদিন ভোরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু ফুল, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রঙের ফুল নদীতে ভাসিয়ে দেন। একই সঙ্গে গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের উদ্দেশে পূজা ও প্রার্থনা করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন জেলায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, ম্রো, খুমী, খেয়াং প্রমুখ) মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব।
বিজু-বৈসু-বিষু উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা টুর্নামেন্ট, সাংগ্রাইং র্যালি ও বয়স্ক পূজা, বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধমূর্তি স্নান, রাতে পিঠা তৈরি এবং মারমা সম্প্রদায়ের রিলংবোই (মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলা)।
এছাড়া বান্দরবানের সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর থাকবে পাহাড়ি জনপদ।