ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে এ দেশে আবার কোনো অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কেউ কায়েম করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতায় আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

বক্তব্যের শুরুতে সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, আজকের অনুষ্ঠানে এসে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন দেখে মনে হয়েছে আমরা বহুলাংশে সফল হয়েছি। আজকে চট্টগ্রাম শহরে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং সৌহার্দ্য দেখেছি, সম্প্রীতির মনোভাব দেখেছি— এটাতেই মনে হয়েছে, আমাদের সব কষ্ট সফল হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বলেন, এ দেশ আমাদের কারো একার না। এ দেশ ১৮ কোটি বাংলাদেশির দেশ। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশিদের দিয়েছিলেন। এটার উদ্দেশ্য ছিল সকল বাংলাদেশিকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। এ জন্য তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণা দিয়েছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ৩১ দফায় রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। আজকে যে রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যয় ছিল সেটি আজকে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোনায় কোনায় দেখতে পাচ্ছি। সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষ এটাকে ধারণ করেছে। এটাতেই আমি আশাবাদী। ভবিষ্যৎ যে বাংলাদেশ হবে সেটা হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। সম্প্রীতির মাধ্যমে সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এ দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি এবং উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সকল সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সব সময় সরব থেকে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সকল অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। চবি ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে নজর থাকবে।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশ নিতে পারিনি কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এ জানাজা মহীয়সী এ নারীর কর্মজীবনের সাফল্য। প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছে জানাজায়।

প্রতিমন্ত্রী ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, দেশের সকল গণতান্ত্রিক গণআন্দোলন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। সবশেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধক ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানান।

উপাচার্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি ৭১ এর বীর শহীদদের, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন। আহতদের গভীর সমবেদনা জানান।

উপাচার্য প্রতিমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ডিপিপি আসেনি। যার কারণে দীর্ঘদিন আমাদের ক্যাম্পাসে আবাসন বা ভবন গড়ে উঠেনি।

তিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপনে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, সকল সদস্য, সকল উপ-কমিটির সদস্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

‘এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা পর্ব, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বলি খেলা, বউচি খেলা ও কাবাডি খেলা।

ঐক্যবদ্ধ,প্রতিমন্ত্রী,মীর হেলাল,চট্টগ্রাম
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত