ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

১৯৭১-এর গণহত্যার স্মৃতিচারণে গোয়ালন্দে শোক ও শ্রদ্ধা

১৯৭১-এর গণহত্যার স্মৃতিচারণে গোয়ালন্দে শোক ও শ্রদ্ধা

২১ এপ্রিল গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী পদ্মাপারের গোয়ালন্দ ঘাটে আক্রমণ চালিয়ে নিরস্ত্র মানুষের ওপর ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত করে।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহীদদের পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল কাকডাকা ভোরে আরিচাঘাট থেকে একটি গানবোট ও একটি কে-টাইপ ফেরি নিয়ে হানাদার পাকবাহিনী তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমার উজানচর ইউনিয়নের কামারডাঙ্গি এলাকায় এসে নামে। সেখানে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইপিআর, আনসার ও মুক্তিবাহিনীর একটি দল হালকা অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ।

কিন্তু পাকবাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। এ সময় শত্রুবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন আনসার কমান্ডার মহিউদ্দিন ফকির। এরপর পাকবাহিনী পাশ্ববর্তী বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ব্যাপক গণহত্যা চালায় এবং নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সেখানে হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন স্বাধীনতাকামী জিন্দার আলী মৃধা, নায়েব আলী বেপারী, মতিয়ার বেগম, জয়নদ্দিন ফকির, কদর আলী মোল্লা, হামেদ আলী শেখ, কানাই শেখ, ফুলবুরু বেগম, মোলায়েম সরদার, বুরুজান বিবি, কবি তোফাজ্জল হোসেন, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগী, আহাম্মদ আলী মণ্ডল, খোদেজা বেগম, করিম মোল্লা, আমোদ আলী শেখ, কুরান শেখ, মোকসেদ আলী শেখ, নিশিকান্ত রায়, মাছেম শেখ, ধলাবুরু বেগম, আলেয়া খাতুন, বাহেজ পাগলাসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

সেই থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ দিনটিকে ‘গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় যুবক ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়ায় অংশ নেন সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মুহিত, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মণ্ডল, অবসরপ্রাপ্ত পিটিআই ইন্সপেক্টর মফিজুল ইসলাম তানসেন, অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. বাবলু বেপারী, উজানচর ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা সেলিম খান সলিম, ব্যবসায়ী জিয়াউল হক বাবলু, শেখ নাজিমউদ্দিন রাসেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এসময় বক্তারা বলেন, ২১ এপ্রিলের সেই ভয়াল দিনটি আজও এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে। ওই দিনই মূলত এ অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল।

গোয়ালন্দে শোক ও শ্রদ্ধা,স্মৃতিচারণ,১৯৭১-এর গণহত্যা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত