ঢাকা রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাঙামাটিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

রাঙামাটিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দফায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুর, নানিয়ারচরের উপজেলার কুতুকছড়ি ও বগাছড়ি এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

৪০ দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় দুটি ইউনিয়নে প্রায় ১২ কিলোমিটারের খাল খনন করা হবে। এতে ৭১৬ জন স্থানীয় শ্রমিক অংশ নিয়েছেন।

‎উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কার্যক্রম দীর্ঘ বছর বন্ধ থাকায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয় এবং বর্ষাকালে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়।

‎খাল খনন কাজে অংশ নেওয়া সুবিধাভোগী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বন্যার ঝুঁকি কমবে। এতে ফসলি জমি রক্ষা পাবে এবং খরা মৌসুমে খালে পানি থাকায় চাষাবাদে সুবিধা হবে। এই এলাকায় একটি ব্রিজের জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায় স্থানীয়রা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট তৈরির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপিই একমাত্র তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে। কৃষক, শ্রমিকের উন্নয়নে বিএনপি অতীতে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে। কৃষকের উন্নতির কথা চিন্তা করেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। এরপর যারা সরকারে এসেছেন তারা খাল খনন করার পরিবর্তে খাল দখল করেছেন।

পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় আবারও খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। এ কর্মসূচি সফল হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যও পুনরুদ্ধার হবে। এসব এলাকায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

খাল খনন কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রবীন্দ্র চাকমা, রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হোসেন চৌধুরী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহাম্মদ শফি, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি, কুতুকছড়ি, বন্দুকভাঙ্গা ও বালুখালী ইউনিয়নে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।

রাঙামাটি,খাল খনন কর্মসূচি,উদ্বোধন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত