ঢাকা সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপির হাসপাতালে মৃত্যু

সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপির হাসপাতালে মৃত্যু

তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মারা গেছেন।

আজ সোমবার (২৫ মে) ভোররাত ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি এবং আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। আইনগত জটিলতা এড়াতে তিনি উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে তার ছেলে রাসেলসহ তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর তিনটি হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে কারাগারের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আব্দুল লতিফের মেয়ে শাম্মি জানান, ২০২৫ সালে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে তার বাবা আব্দুল লতিফ ও ভাই রাসেলকে আটক করে পুলিশ।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, ভোররাত ৩টা ৩৫ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ভোর ৪টায় তিনি মারা যান।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই সময়ে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ মোট আটটি মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

হাসপাতালে মৃত্যু,সাবেক পিপি,সাতক্ষীরা জজকোর্ট
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত