
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাব-১৩ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কালেক্টরেট ঈদগাহসহ জেলার বিভিন্ন ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম।
বুধবার সকালে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ঈদের প্রধান জামাতে ব্যাপক মুসল্লির সমাগম হবে। এ কারণে টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন এবং তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে নাশকতা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে র্যাব তৎপর রয়েছে। মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল ও পশুর হাটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি। জাল টাকা, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন র্যাব সদস্যরা।
র্যাব-১৩ জানিয়েছে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও টার্মিনাল এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। যেকোনো তথ্য বা সহায়তার জন্য র্যাবের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. বায়েজীদ হোসাইন।
ঈদের প্রধান জামাতে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেবেন।
বুধবার সকালে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ঈদগাহ মাঠের প্যান্ডেল সাজানো, বৃষ্টির পানি অপসারণসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে দেখা গেছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত জেলা মডেল মসজিদে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদের প্রধান জামাতের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ৭৫টি ঈদগাহ মাঠসহ জেলার ১২ শতাধিক ঈদগাহ এবং মহল্লাভিত্তিক ছয় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।
এদিকে জেলার ঐতিহাসিক কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠ, নূরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিপাড়া ঈদগাহ, রংপুর সদর হাসপাতাল জামে মসজিদ, কামারপাড়া কুতুবিয়া জামে মসজিদ ও শাপলা চত্বর হাজীপাড়া আশরাফিয়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত সময়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ ও মাদরাসায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে স্থানীয় মসজিদ ও মডেল মসজিদে নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়াও পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মহানগরসহ আট উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার তালিকাভুক্ত মসজিদ রয়েছে। এবারের ঈদ জামাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সম্প্রীতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে রংপুর সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও সড়ক দ্বীপ জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ লেখা পতাকা দিয়ে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার ও শিশু পরিবারগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্র ঈদ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ‘ঈদ আনন্দে মাতি সবাই’, ‘ঈদের আনন্দ ঘরে ঘরে’, ‘ঈদ আড্ডা’ ও ‘আনন্দ আনন্দ’ নাটক।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবার সহযোগিতায় রংপুরে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।