
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় জমে উঠেছে মাংস কাটার প্রয়োজনীয় উপকরণ ‘খাইট্টা’ বিক্রি। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের খাইট্টার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও বিক্রেতারা। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন হাট-বাজার ও মোড়ে এখন থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের খাইট্টা।
বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও কাঠপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ তৈরি করছেন ছোট আকারের খাইট্টা, আবার কেউ গরুর মাংস কাটার উপযোগী বড় ও মজবুত খাইট্টা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন।
স্থানীয় বাজারে আকার ও কাঠের মানভেদে প্রতিটি খাইট্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
খাইট্টা বিক্রেতারা জানান, এসব খাইট্টা তৈরিতে সাধারণত তেঁতুল, বাবলা, নিম ও মেহগনি কাঠ ব্যবহার করা হয়। তবে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ তেঁতুল ও বাবলা কাঠের খাইট্টা। তেঁতুল কাঠের খাইট্টা বেশি শক্ত ও টেকসই হওয়ায় চাপাতির আঘাতে সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এছাড়া মাংসের সঙ্গে কাঠের গুঁড়ো মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।
ঈশ্বরদী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই খাইট্টার চাহিদা বাড়তে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে নতুন খাইট্টা কেনার ধুম পড়েছে। ঈদ ঘিরে শেষ মুহূর্তে বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক কারিগরকে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।