
কোরবানির ঈদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানির পশু জবাই করে তার এক-তৃতীয়াংশ মাংস দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করে থাকেন। সেই মাংস গ্রহণ করার পর অনেক হতদরিদ্র মানুষ তা নিজেদের কাছে রাখার বদলে বিক্রি করে দিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। সাধারণত যারা একসঙ্গে প্রচুর মাংস পান এবং সংরক্ষণ করতে পারেন না, তাদের মাংস শহরের বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারে চলে যাচ্ছে। সেখানে তা কিনছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
ঈশ্বরদীতে এসব দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দান হিসেবে পাওয়া মাংস অনেক সময় সংরক্ষণ করতে না পেরে বিক্রি করছেন। ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট, ফকিরের বটতলা, চাঁদ আলী মোড়, পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারে এই মাংস বিক্রি হচ্ছে। যাদের সামর্থ্য নেই বা বেশি দামে মাংস কিনতে পারেন না, তারা কম দামে এই মাংস কিনে থাকেন।
সাধারণত কোরবানির ঈদের সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা যায়। এসব অস্থায়ী বাজারে মাংসের দরদাম মূলত নির্ভর করে মানের ওপর। হাড়ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। সাধারণ গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, মাথা ও পায়ের মাংস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি এবং গরুর ভুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যার পর সরেজমিনে শহরের রেলগেট, ফকিরের বটতলা, চাঁদ আলী মোড়, পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এসব স্থানে মাংস বিক্রি হচ্ছে। এ মাংস কেউ নিজে কোরবানি দিয়ে বিক্রি করছেন না; বরং অধিকাংশই দানের অংশ হিসেবে পাওয়া মাংস সংরক্ষণ করতে না পেরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
একাধিক স্থানে দেখা যায়, মাংস বিক্রির জন্য বসেছে অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে কসাই, গরু কাটার শ্রমিক, এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহকারী নারী-পুরুষরাও নিজেদের প্রাপ্ত মাংস বিক্রি করছেন। আবার কিছু ফড়িয়া দরিদ্রদের কাছ থেকে কম দামে মাংস কিনে রাস্তার পাশেই তুলনামূলক বেশি দামে তা বিক্রি করছেন।
কোরবানির গরু, ছাগল ও ভেড়া জবাইয়ের পর গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে হতদরিদ্ররা মাংস সংগ্রহ করেন। পরে কিছু মাংস নিজেদের খাবারের জন্য রেখে বাকি অংশ এসব অস্থায়ী বাজারে বিক্রি করে নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাচ্ছেন তারা।
আবেদা বেগম নামে এক হতদরিদ্র নারী বলেন, “পাঁচ কেজি গরুর মাংস ও দুই কেজি খাসির মাংস পেয়েছি। বাড়িতে ফ্রিজ নেই। পাঁচজনের সংসার। তাই দুই কেজি গরুর মাংস ও এক কেজি খাসির মাংস রেখে বাকিটা বিক্রি করতে এসেছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, “কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বাজারেও মাংসের দাম বেশি। তাই প্রতি বছর ঈদের দিন রাস্তার পাশ থেকেই মাংস কিনি।”