
দিনাজপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট নির্ধারিত সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো না হওয়ায় ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গত দুই দিন ধরে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ১২ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে সিলগালা করা বস্তা খুলে হারিয়ে যাওয়া ওএমআর শিট খোঁজার কাজ চলছে।
জানা গেছে, সারাদেশের মতো দিনাজপুরেও গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মে সম্ভাব্য ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সেগুলো সিলগালা অবস্থায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করা হয়।
তবে গত ১ জুন হঠাৎ করে ওই সিলগালা করা বস্তা খুলে উত্তরপত্র বের করার কাজ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ ও ৫ মে ওএমআরের দ্বিতীয় অংশ অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও দিনাজপুর থেকে দুই শতাধিক ওএমআর শিট পাঠানো হয়নি। ফলে হারিয়ে যাওয়া বা বাদ পড়া ওই শিটগুলো খুঁজে বের করতে আবারও উত্তরপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা দাবি করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দীকের দায়িত্বে অবহেলা ও চরম উদাসীনতার কারণেই নির্ধারিত সংখ্যক ওএমআর শিট যথাসময়ে পাঠানো হয়নি। এতে বৃত্তির ফল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দীকের বিরুদ্ধে অতীতেও সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কথা সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি তখন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া ওএমআর শিটের মধ্যে ৭টি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।