
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ মাসে ২১৮টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। সিজার ছাড়াই স্বাভাবিক সন্তান প্রসব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিরা স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৫১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫১ জন, মার্চ মাসে ৩৬ জন, এপ্রিল মাসে ৩৩ জন এবং মে মাসে ৪৭ জনসহ ৫ মাসে ২১৮ জনের নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি সনদ দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে সহজেই জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন তারা। সবার সহযোগিতা পেলে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কর্মরত চিকিৎসকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণেই এটি সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ববর্তী ও প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করায় নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি হওয়া মায়েরা জানান, শুরুতে তাদের নরমাল ডেলিভারি নিয়ে ভয় লাগলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী ও চিকিৎসকদের আশ্বাসে হাসপাতালে এসে নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এতে তাদের একদিকে যেমন খরচ বেঁচেছে, অন্যদিকে প্রসূতি মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা জানান, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এবং নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ করতে এই হাসপাতালে দক্ষ মিডওয়াইফ রয়েছে। যার ফলে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে এবং দিন দিন নরমাল ডেলিভারিতে প্রসূতিদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ হাসপাতালে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না।
ভবিষ্যতে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।