
পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ করে চমক দেখিয়েছেন স্কুলশিক্ষক রকিবুল ইসলাম। তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিদেশি জাতের আঙ্গুর। শুধু ফল বিক্রি নয়, চারা উৎপাদন করেও সফলতা পেয়েছেন তিনি।
উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়ার আব্দুস সাত্তারের জমিতে ব্যতিক্রমী স্বপ্নের আঙ্গুর বাগান গড়ে তুলেছেন তার জামাতা, স্কুলের কৃষি শিক্ষক রকিবুল ইসলাম। এটি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা রাশিয়ার কোনো ফল বাগান নয়।
ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে রাশিয়ান বাইকুনুরসহ চার জাতের আঙ্গুর। বিদেশি ফল আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ করে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
বাগানের গাছে গাছে এখন ঝুলছে থোকায় থোকায় লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের সুস্বাদু আঙ্গুর। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে রঙিন আঙ্গুরের ছড়াগুলো যেন শীতপ্রধান কোনো ইউরোপীয় দেশের আঙ্গুর বাগানের দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়।
একসময় গ্রামের মাটিতে আঙ্গুর চাষ ছিল অনেকটাই কল্পনার বিষয়। সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন রকিবুল। এক বিঘা জমিতে গড়ে তোলা তাঁর বাগানে রয়েছে রাশিয়ার বাইকুনুর, একেলো ও গ্রিনলংসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় দেড়শটি আঙ্গুরগাছ।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, আঙ্গুরের ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলোকে ধরে রাখতে বাঁশের খুঁটি ও মাচা তৈরি করা হয়েছে। পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর হাত থেকে পাকা আঙ্গুর রক্ষায় পুরো বাগানজুড়ে ব্যবহার করা হয়েছে নেটের জাল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন বিদেশের কোনো আধুনিক আঙ্গুর খামার।
রকিবুল জানান, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করলেও এখন তা বাণিজ্যিক সফলতায় রূপ নিয়েছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি তিনি আঙ্গুরের চারা উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন। আঙ্গুর ছাড়াও তার ড্রাগন ও মালটার বাগান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসেন। অনেকেই আঙ্গুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আঙ্গুরের স্বাদ বাজারে পাওয়া বিদেশি আঙ্গুরের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে রকিবুলের আঙ্গুর বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ জানতে চাইছেন আঙ্গুর চাষের পদ্ধতি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আঙ্গুর বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে আঙ্গুরের পরিচর্যায় তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রকিবুলই প্রথম ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে এক বিঘার আঙ্গুর বাগান গড়ে তুলেছেন। আঙ্গুর বাগানের পাশে তার ড্রাগন ও মালটার বাগানও রয়েছে। আমরা চাই এ দেশের কৃষকরা আধুনিক ও লাভজনক ফল চাষে আরও বেশি আগ্রহী হোক। এ দেশে বিদেশি ফলের বাগান গড়ে উঠলে বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে ফল আমদানি করতে হবে না।