ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতারণার অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতারণার অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গোপালপুর ইউনিয়নে ইসলামি ব্যাংকের এক এজেন্টের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আফুলশি গ্রামের বাসিন্দা ইশফাক ইয়াছিন দুটি এজেন্ট ব্যাংক পরিচালনা করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর গত ১ জুন থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশফাক ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আমিশাপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি বেগমগঞ্জে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি অনলাইনে বই বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লাভের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমি বিশ্বাস করতাম তিনি একজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাকে দেখতাম। আমাদের টাকা আত্মসাৎ করবেন, এমনটা কখনো ভাবিনি।”

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের পর গত ১ জুন দুপুরে তিনি নোয়াখালী ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের সব মাধ্যম অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় অনেকেই তার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন।

তাদের অভিযোগ, সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রতারণা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, “আমার বিশ্বাস ছিল না যে তিনি আমাদের সঙ্গে এমন করবেন। বিভিন্নভাবে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। এখন আমি আমার টাকাটা ফেরত চাই।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার পাশাপাশি জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তিও দূর হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার আরেকটি অভিযোগে ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। তাই তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ইশফাক ইয়াছিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতারণার অভিযোগ,এজেন্ট ব্যাংকিং,নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত