ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুর্গাপুরে মামলা নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাইল শহীদ পরিবার

দুর্গাপুরে মামলা নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাইল শহীদ পরিবার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে দাবি করে তা থেকে অব্যাহতি পেতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জুলাই শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের সহোদর, বিরিশিরি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং তার মা খোদেজা খাতুন।

জানা গেছে, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের উত্তর গুজিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রহম আলী দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২ জুন সন্ধ্যায় পুলিশ খাইরুল ইসলামকে আটক করে।

পরদিন ৩ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুল আমিন ভূঁইয়া তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের বড় ভাই খাইরুল ইসলামকে ঘিরে মানববন্ধনে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন তার স্বজন ও সমর্থকরা।

শহীদ পরিবারের নাম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলের মতো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বন্ধকি জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সংশ্লিষ্ট জমিগুলো এখনো বন্ধকগ্রহীতাদের দখলে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত ভোগদখল ও চাষাবাদ করছেন। তাদের ভাষ্য, জমি সংক্রান্ত এসব লেনদেন দীর্ঘদিনের এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।

স্থানীয়দের দাবি, হাজী সেকান্দর আলীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে বিভিন্ন সালিশের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জমিজমা বেহাত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে নিহত হন হাজী সেকান্দর আলীর ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম সেকুল। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের পর থেকেই একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানি চালিয়ে আসছে বলে দাবি পরিবারের।

শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের মা খোদেজা খাতুন বলেন, একটি কুচক্রী মহল জুলাই আন্দোলন এবং তাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তার অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই পূর্ববর্তী সরকারের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও ডেপুটি স্পিকারের কাছে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে যারা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

শহীদ পরিবার,হস্তক্ষেপ,ডেপুটি স্পিকার,দুর্গাপুরে মামলা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত