
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বাড়ছে। সেই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই চৌহালীতে প্রায় ১শ মিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৫৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২৯ এবং কাজিপুর পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনা নদীর নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বর্ষণ ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকার কয়েকটি স্থানে প্রায় ১শ মিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ভাঙন রোধে ইতোমধ্যেই সেখানে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
চৌহালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মওদুদ আহম্মেদ সবুজ বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি, ঢেউ, স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে দিনরাত কাজ করা হচ্ছে। এখনও ওই এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা কাটেনি। তবে পানি বৃদ্ধি ও বর্ষণ না হলে ২-১ দিনের মধ্যেই এ ভাঙন কমে যাবে।
এদিকে যমুনার পানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যেই বহু জায়গার জমি যমুনাগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চৌহালীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এ ভাঙন রোধে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।