ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে গঙ্গাদাশপুর-পাথিলা গ্রামের কয়েকশ পরিবার

রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে গঙ্গাদাশপুর-পাথিলা গ্রামের কয়েকশ পরিবার

রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ড্রেন ও কালভার্ট সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা জনপ্রতিনিধিদের কাছে দেশের জনগণের একটি মৌলিক দাবি। কিন্তু সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গার ছোট্ট উপজেলা জীবননগরের অধীন সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর ও পাথিলা এই দুই গ্রামের কয়েকশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিনযাপন করছে।

সাধারণ জনগণের অভিযোগ, জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন এলেই ভোটের জন্য রাজনৈতিক নেতারা দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভের পর তাদের রাস্তা নির্মাণ তো দূরের কথা, এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা বা কথা বলারও সুযোগ থাকে না। আবার রাস্তা নির্মাণের কথা বলা হলে তারা বিরক্ত বোধ করেন। যার ফলে বৃষ্টির সময় এই দুই গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাদাশপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের বাড়ি থেকে পাথিলা গ্রামের মসলেম মিয়ার জমি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা কোনোরকম ইটের সলিং করা। মাঝেমধ্যে খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের ভ্যান ভেঙে যাচ্ছে এবং নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েক স্থানে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে।

গঙ্গাদাশপুর গ্রামের রডমিস্ত্রি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গঙ্গাদাশপুর গ্রামের এই রাস্তাটা ব্যস্ততম রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পাওয়ার টিলার, ভ্যান ও সিএনজি যাতায়াত করে। তা ছাড়া বৃষ্টি হলেই এই গ্রাম দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এই গ্রামের রাস্তাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও নেতারা এই রাস্তা না করে, যেখান দিয়ে মানুষের যাতায়াত কম, সেই রাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমাদের এই গ্রামের মানুষের একটাই দাবি, অতি দ্রুত যেন এই রাস্তাটা তৈরি করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়।”

পাথিলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “ভোটের সময় আমরা এমপি, চেয়ারম্যান এমনকি মেম্বার—সবার কাছেই রাস্তার দাবি জানাই। তারাও নির্বাচনের সময় কথা দিয়ে যান, কিন্তু সেই কথা কেউ রাখেননি। আমরা শুধু জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা আশ্বাসে ভুগছি। আমরা আর মিথ্যা আশ্বাসে ভুগতে চাই না। আমরা চাই সরকার যেন অতি দ্রুত এই দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে রাস্তাটি নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “গঙ্গাদাশপুর গ্রামের রাস্তাটির বিষয় আমরা জানিয়েছি। এটি মাপজোক করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত এর কাজ শুরু হবে।”

কয়েকশ পরিবার,গঙ্গাদাশপুর-পাথিলা গ্রাম,রাস্তার অভাব
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত