ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গণমুখী বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণমুখী বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৩ জুন কক্সবাজার সফরে এসে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে কক্সবাজারবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি কক্সবাজারে আসছেন। নির্বাচনের আগে তিনি আসতে পারেননি। তাই জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। এ অঞ্চলের মানুষ তাকে সরাসরি দেখবেন, তার বক্তব্য শুনবেন। এটিই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিগত বা স্থানীয় দাবি উত্থাপন করা হবে না। তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং কক্সবাজারে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব দাবি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী নামে নতুন উপজেলা সৃষ্টির প্রস্তাব জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির (নিকার) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে একটি থানা প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত পেকুয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠা। সেই দাবিও অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

সফরসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে আমরা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরব। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

এ সময় জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এবারের বাজেট গণমুখী ও দরিদ্রবান্ধব। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদেশি সহায়তা ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

বাজেটকে ‘দলীয় বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,তুলে ধরলেন,উন্নয়ন পরিকল্পনা,গণমুখী বাজেট
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত