
পাবনার ঈশ্বরদীতে আলোচিত দাদি ও নাতনি সেতুকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঈশ্বরদীর স্থানীয় জনপদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজার এলাকায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাবনা-দাশুড়িয়া মহাসড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে স্থানীয় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নিহত পরিবারের সদস্য এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার-ফেস্টুন ও বিচারের দাবিতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
টানা তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় সড়কের উভয় পাশে অন্তত দুই কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে ৬৫ বছর বয়সী সুফিয়া খাতুনকে হত্যা করা হয় এবং তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি জামিলা আক্তার সেতুকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত শরিফসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিচার ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান তারা।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এবং ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব বা গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না।