
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এটিও (সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসঙ্গতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া একটি লিখিত আবেদনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
আবেদনে উপজেলার ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে।
পাবনা-৩ আসনের (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোজাহিদ স্বপন ও সদস্যসচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোকের সুপারিশ সংযুক্ত এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিযোগে প্রধান শিক্ষকদের দাবি, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য গ্রহণে চাপ প্রয়োগ করা হয়। বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্যে এসব পণ্য গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদানসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ড ও অন্যান্য বরাদ্দ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব দাবির প্রতি সাড়া না দিলে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে উৎকোচ গ্রহণ, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং জ্বালানি ব্যয় বহনের জন্য চাপ প্রয়োগের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষক সম্পর্কে অবমাননাকর ও অশোভন মন্তব্য করে তাদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে নির্মিত সাঁকো ও সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষমতা ও বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) প্রদানের প্রভাব ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয় এবং অনৈতিক নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানালে শোকজসহ বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শোহেব কামাল রতন বলেন, “সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা কারও মানহানি করতে চাই না; অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করি।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী বলেন, “শিক্ষকরা তার কাছে কোনো অভিযোগই দেননি। তবে ওই এটিওকে কিছু কিছু বিষয়ে পূর্বে সতর্ক করা হলেও তিনি শোনেননি।”