
মুন্সীগঞ্জের এক যুবককে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ঢাকার গুলশান এলাকার একটি বাসায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সাবেক স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম ইনছান বেপারী (২২)। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের ঘাসিপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ইনছান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে তার মা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় বিষয়টি জানান। পরে ইনছানের ব্যবহৃত মুঠোফোনের ইমো নম্বর থেকে পরিবারের কাছে কল করে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে ইনছানের অবস্থান ঢাকার গুলশান এলাকায় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানা পুলিশের সহায়তায় রোববার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার শাহজাদপুর ভোলা মসজিদের সামনে কাজী ভিলা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইনছানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ইনছান জানান, তার সাবেক স্ত্রী মুনিয়া আক্তার সাফা ওরফে সাফামনি (২০) কৌশলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে সাফামনির কথিত প্রেমিক মো. নুর হাছান নাঈমসহ কয়েকজন তাকে ওই বাসায় আটকে রেখে মারধর করেন এবং পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেন।
পুলিশের তদন্তে মুনিয়া আক্তার সাফা ওরফে সাফামনিকে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে মুনিয়া আক্তার সাফা ওরফে সাফামনি (২০), নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মো. সেলিমের ছেলে মো. নুর হাছান নাঈম (২৩), নোয়াখালীর চরজব্বার এলাকার মো. সোহেল (২৪), সুধারাম এলাকার মো. বেলায়েত হোসেন (২৫) এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার রোমান ইসলাম (২৩)।
মো. মেনহাজুল আলম, মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার, এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত পদক্ষেপ ও আন্তঃথানা সমন্বয়ের মাধ্যমে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।