
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম (৬০) জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও দু’মুঠো খাবারের জন্য মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি ঈশ্বরদীর জয়নগর চাউল মোকামের বিশিষ্ট ধান-চাল ব্যবসায়ী মরহুম আনোয়ার হোসেন (কাঠী)-এর স্ত্রী।
মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি নানা ধরনের পারিবারিক নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে ছেলে-মেয়েরা তা ভোগদখল করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন অত্যাচার-নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেছেন। তবে গত দুই বছর ধরে তিনি নিজের বাড়িতেই ফিরতে পারছেন না। বাড়িতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জীবনের এই শেষ সময়ে আমি আর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে চাই না। আমি শুধু দু’মুঠো ভাত এবং মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই চাই। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে আমার অধিকার নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মনোয়ারা বেগম বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাবারের জন্য দ্বারস্থ হন। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতায় তিনি কষ্টে দিন পার করছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই বলে জানান তিনি।
মনোয়ারা বেগম তার জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
মনোয়ারা বেগম ও মরহুম আনোয়ার হোসেন দম্পতির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। তারা হলেন— আরিফুল ইসলাম আরিফ (৪৫), আশিকুল ইসলাম রুবেল (৪২), আনিদুল ইসলাম রতন (৩০), শারমিন আক্তার রত্না (৪৩) এবং সুলতানা আক্তার স্বপ্না (৪৭)।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সন্তানদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মনোয়ারা বেগম যেন তার আইনগত অধিকার ও স্বামীর সম্পত্তিতে প্রাপ্য অংশ ফিরে পান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থা ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি শহিদুল হাসান ববি সরদার বলেন, কারো অধিকার বা প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মাতা হোক, সন্তান হোক বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য— অধিকার সবার সমান। আবার মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে যদি কেউ অত্যাচারের পথ বেছে নেয়, সেটিও প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের শামিল। সেক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মনোয়ারা বেগমকে তার সন্তানেরা বাড়িতে বসবাস করতে দিচ্ছেন না এবং সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। তাকে বাস্তুচ্যুত করার জন্য যে পথ অবলম্বন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের বাইরে থাকা উচিত নয়। প্রয়োজনে মানবাধিকার সংগঠন অসহায় এই মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।