
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে কৃষি উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক সোলার প্যানেলচালিত সেচ কার্যক্রম এবং সোলারচালিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরে তিনি কৃষক বীজাগার ও বীজ বিনিময় কেন্দ্র পরিদর্শন করে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত জাতের বীজ সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে কম্পোস্ট উৎপাদন ও ঐতিহ্যবাহী কুমড়া বড়ি তৈরির কার্যক্রম ঘুরে দেখে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। উৎপাদন, মানোন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর জেলা প্রশাসক চর নটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় কৃষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে গাছের চারা, অনুদানের চেক এবং সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউসুফ আলী মোহনমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়-এ মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুস্মিতা সাহা।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সচেতনতা সৃষ্টি, পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, মানসম্মত শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।