
‘হে আল্লাহ, আমার শিশু সন্তান হেনজা এলনাজকে মৃত্যু দিও না। এ সুন্দর পৃথিবীতে আমার শিশু সন্তানও বাঁচতে চায়।’—এ আকুতি জানালেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দ্বাবাড়ীয়া গ্রামের বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হেনজা এলনাজের বাবা-মা আল্লামা ইকবাল তুসার ও আনিকা বিনতে রহমান উপমা দম্পতি।
চোখের অশ্রু ফেলে এ দম্পতি জানান, জন্মের মাত্র ৪ মাস বয়সে শিশু হেনজা এলনাজ তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, হেনজা ‘ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ (ডিসিএম) নামের একটি অত্যন্ত জটিল ও বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত।
রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী এবং শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাশিরাজ-এর অধীনে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশু হেনজা (২১ মাস) একটি বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র তিনজন শিশুর শরীরে এ রোগ শনাক্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি রাখা হয়েছে। প্রতি মাসে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয়ভার বহন করা তার বাবা-মায়ের পক্ষে এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও সন্তানকে বাঁচানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আবারও ভারতে নিয়ে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি এ চিকিৎসার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ওই শিশুর পরিবারের পক্ষে এ বিপুল অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির বাবা-মা।