ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রাম, জীবন ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও কৃষক

ছোট্ট সেতুর অপেক্ষায় কয়েক গ্রাম, জীবন ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও কৃষক

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হাজীপুর মাঝিবাড়ি থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাস্টারবাড়ি পর্যন্ত যোগাযোগের পথে একটি ছোট সেতুর অভাব দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিনারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজমি খালের ওপারে অবস্থিত। ফলে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে আনতে কৃষকদের অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাবেক গ্রাম সরকার সদস্য আবেদ আলী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি। একটি ছোট সেতুর অভাবে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।”

স্থানীয় কৃষক মোসারফ বলেন, “আমাদের জমি খালের ওপারে। ধান-পাটসহ সব কৃষিপণ্য এই সাঁকো দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে সময় ও খরচ বেড়ে যায়, অনেক সময় কৃষিপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুমের ভাষ্য, “এটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।”

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এনামুল হক মাঝি বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

ক্ষুদে শিক্ষার্থী আশিক জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বর্ষাকালে আরও বেশি ঝুঁকি থাকে। একটি সেতু হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারব।”

স্থানীয়দের দাবি, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একটি ছোট্ট সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ে সেতু স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থী ও কৃষক,জীবন ঝুঁকি,ছোট্ট সেতু
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত