
যমুনার প্রবল স্রোতে ভাঙনের কবলে পড়ে টাঙ্গাইলের তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে মহাসড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
ইতোমধ্যে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অপরদিকে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি রোববার রাত থেকে যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের মুখে পড়ে। যার ফলে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
অনেককে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।
স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত থেকে তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি যমুনা নদীর ভয়াল আগ্রাসনের মুখে ঝুঁকিতে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা যার যার মতো করে বাঁশ ও গাছ কেটে স্রোত রোধের মাধ্যমে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন।
এ প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের দাবি, নদীশাসনের জন্য প্রতিবছরই জিওব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু তাতে কার্যকর নদীশাসন হচ্ছে না। ফলে স্থায়ীভাবে যমুনা নদী শাসন করতে হলে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় সকাল থেকে জিওব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত রয়েছেন শ্রমিকরা। তবে স্থানীয়রা মিলে গত রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, “যেটা করেছি, সেটা শুধু সাময়িক উদ্যোগ। নদীর তীর রক্ষার্থে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে জিওব্যাগ কোনো কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যার সময় এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে।”
তিনি আরও জানান, গত বছরও এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি অংশে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসড়কটি ধসে পড়লে ভুঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যেই সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানান, তারাকান্দি মহাসড়কের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে যমুনা নদীর তীব্র স্রোত আঘাত হানে। ফলে সেখানে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তের মধ্যে গোপালপুরের শাখারিয়া এলাকাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিকভাবে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব স্থান সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল মোর্শেদ জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি বন্ধ থাকলেও মানুষ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে। পাশাপাশি মানুষের সাময়িক ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।