
অর্থের অভাবে অনেক মানুষ আইনি লড়াই শুরুই করতে পারেন না। মামলা পরিচালনার খরচ, আইনজীবীর ফি ও আদালতের ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও কম নয়। তবে এমন অসচ্ছল মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে কাজ করছে সরকারের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন-এনএলএএসও) আওতায় পরিচালিত ফরিদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস।
ফরিদপুর জেলা জজ আদালত চত্বরে অবস্থিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও যোগ্য ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে বিচার কার্যক্রম, প্রয়োজনে আপিল এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।
জানা গেছে, ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দারা সরাসরি জেলা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে পারেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, এ সেবার আওতায় দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিক মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবীর সেবা, কোর্ট ফি ও মামলা-সংক্রান্ত সরকারি ব্যয় বহন, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপিল পর্যায়েও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।
সাধারণত বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকার কম এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিরা এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
আবেদন করতে হলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দেওয়া আয় সনদ এবং মামলার প্রাথমিক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আবেদন যাচাই শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ৭৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত কৃষক নান্নু খাঁ লিগ্যাল এইডের সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। বয়স হয়েছে, আয়-রোজগারও নেই বললেই চলে। ফরিদপুরের এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। মামলা চালানোর মতো টাকা ছিল না। লিগ্যাল এইড অফিসে এসে কোনো টাকা ছাড়াই আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছি। আমার মতো অসহায় মানুষের জন্য এটি সরকারের একটি মানবিক উদ্যোগ। আমি চাই, যারা অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে দূরে আছেন, তারা যেন এই সেবার কথা জেনে এগিয়ে আসেন।”
ফরিদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, অফিসটি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া জাতীয় লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন ১৬৬৯৯-এ ফোন করেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো লিগ্যাল এইড কার্যক্রম। অর্থের অভাবে যাতে কোনো নাগরিক আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাই আইনি সমস্যায় পড়লে হতাশ না হয়ে সরকারি এই সেবার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।