ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও গাছ কাটায় হারিয়ে যাচ্ছে কাউ ফল

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও গাছ কাটায় হারিয়ে যাচ্ছে কাউ ফল

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কাউ ফল। অপরিকল্পিত নগরায়ন, গাছ কাটা এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বনজ ও গ্রামীণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে বর্ষার সুস্বাদু দেশি ফল কাউ এখন বিলুপ্তির পথে।

কাউ ফলের বৈজ্ঞানিক নাম Garcinia Cowa। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ চীন, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে এই গাছ দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলটির ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও বোয়ালমারীতে এটি ‘কাউ ফল’ নামেই পরিচিত। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের অন্যতম প্রিয় মৌসুমি ফল ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তন এবং দেশি ফলের গাছ কমে যাওয়ায় কাউ এখন অনেকটাই দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

কাউ গাছ একটি দীর্ঘাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। এর ডালপালা নিচের দিকে ঝুলে থাকে এবং বছরের অধিকাংশ সময়ই সবুজে আচ্ছাদিত থাকে। সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে গাছে ছোট ছোট ফুল ফোটে। ফুল ঝরে যাওয়ার পর ফল ধরতে শুরু করে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকতে থাকে। পাকা ফলের প্রতি বাদুড় ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীরও বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কিছু গাছে এখনও শোভা পাচ্ছে কাউ ফল। ফলটি খেতে সুস্বাদু। বিশেষ করে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে এটি বেশ পরিচিত।

একসময় গ্রামের বাড়ির আঙিনা, বনবাদাড় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে প্রচুর কাউ গাছ দেখা যেত। বর্তমানে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটার কারণে এই বৃক্ষ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। দেশের কিছু অঞ্চলে এখনও কাউ গাছের দেখা মিললেও আগের মতো আর চোখে পড়ে না।

আকৃতিতে গোলাকার কাউ ফলের ব্যাস সাধারণত প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার। ফলের গায়ে ছয় থেকে আটটি হালকা খাঁজ থাকে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং ধূসর-সবুজ হলেও পাকলে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এর খোসা কিছুটা তেলতেলে এবং খোসা ছাড়ালে একটি স্বতন্ত্র গন্ধ পাওয়া যায়। ভেতরের শাঁস কমলা-হলুদ রঙের, রসালো এবং টক-মিষ্টি স্বাদের।

জানা যায়, কাউ ফলে রয়েছে ভিটামিন সি। এটি মুখের অরুচি দূর করতে সহায়ক। পরিমিত ক্যালোরি, চর্বি, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ফলের প্রয়োজনীয়তা অনেক। এছাড়া সর্দি-জ্বর ও ঠান্ডা সারাতেও এটি উপকারী। গাছের ছাল আমাশয়, খিঁচুনি ও মাথাব্যথার চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়।

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাকা কাউ ফলের রসালো কোয়াগুলো বের করে মরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভর্তা করে খেতে খুব ভালো লাগে।

ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও কাউ দিয়ে জ্যাম ও জেলি তৈরি করা হয়। এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

কাউ ফল,হারিয়ে যাচ্ছে,গাছ কাটা,অপরিকল্পিত নগরায়ন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত