
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে তার চারটি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার (আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ গ্রেপ্তার দেখানো ও জামিন শুনানির কার্যক্রম চলে।
নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর ফিংড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ও সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা।
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই নজরুল ইসলামকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য তাকে সাতক্ষীরায় আনা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরাতন সাতক্ষীরার আবির হাসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর চরে ফেলে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।
এ ছাড়া ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ধুলিহরের অহিদ হত্যার অভিযোগে, ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর গভীর রাতে সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শিকড়ি কুলবাগানে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এবং ২০১৪ সালের ১৩ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ইসলাম মোড়লকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাধবকাটিতে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল চলাকালীন ঝাউডাঙা বাজারে গোবিন্দকাটি গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই পাঁচটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবেদন জানান।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কারাগার থেকে তাকে সাতক্ষীরা কারাগারে আনা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল তাকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন।
একইসঙ্গে তার আইনজীবীরা আদালতে চারটি মামলায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে সবকটি মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের পুলিশ উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, আসামি মোঃ নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর দুপুর একটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।