ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ঘোষণা

অনিয়ম–জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারা চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে প্রশাসক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের শুরুতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকার মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিচ্ছে। শুরুতে এখান থেকে অর্থ দেওয়ার পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে রেশিও অনুযায়ী বাকি অর্থ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রশাসকদের সঙ্গে দুইজন করে সহযোগী প্রশাসক দেওয়া হয়েছে। অবসায়ন হতে যাওয়া আভিভা ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. আলাউদ্দিন হোসেনকে। এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. সাদেকুর রহমানকে।

অবসায়নের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসেও প্রশাসক দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে আদালত কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ থাকায় তা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের আদেশের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে চার প্রতিষ্ঠানকে। এ তালিকায় রয়েছে– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতি করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে অবসায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য দুর্বল ২০টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কেন বন্ধ করা হবে জানতে চেয়ে গতবছর চিঠি দিয়েছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সর্বশেষ ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়া হয়।

বিদ্যমান নিয়মে– কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর যতো টাকাই জমা থাকুক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পত্তি বিক্রি করে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

আবা/এসআর/২৬

আর্থিক প্রতিষ্ঠান,অকার্যকর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত