
রংপুর অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
একদিকে গরম, অন্যদিকে লোডশেডিং—এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। দিন-রাত সমানতালে থাকছে না বিদ্যুৎ। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে এক ঘণ্টাই নেই। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে, তেমনি রাতের বেলায় গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে না পেরে সময়মতো অফিস করতে পারছেন না চাকরিজীবীরা।
বিশেষ করে পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মানুষজন। রান্নায় ব্যবহার করা ইলেকট্রিক চুলা ও রাইস কুকার ব্যবহারকারী গৃহিণীদেরও বেশ ভোগাচ্ছে এই লোডশেডিং। হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে চরম বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসক-নার্স ও রোগীর স্বজনেরা। এছাড়াও স্থবির হয়ে পড়েছে রংপুরের ছোট ছোট কারখানাগুলো।
নগরীর কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, ‘বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ নেই। সকালে সময়মতো খাবার রান্না করতে পারছি না। ছেলে স্কুলে যাচ্ছে না খেয়ে। ব্যবসায়ী স্বামীও না খেয়েই কাজে চলে যাচ্ছে।’
গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘এই গরমে শাশুড়িকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছি। বিদ্যুৎ থাকছে না, তাই সবসময় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে। এই লোডশেডিং আমাদের অনেক ভোগাচ্ছে।’
কামারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী রাসেক আলী বলেন, ‘আমার ব্যবসাই হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর। দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে আয়-রোজগার একেবারেই কমে গেছে। কর্মচারীদের বেতন দেব কী, আর দোকান ভাড়া কোথা থেকে দেব? নিজের কথা তো নাই বললাম।’
চাকরিজীবী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। যার কারণে অফিসের কাজও করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই লোডশেডিং সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের মহানগর সভাপতি বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে রংপুরের প্রতিটি স্তরের মানুষ এখন নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। লোডশেডিং সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে রংপুর নগরীর অবস্থা আরও অবনতি হবে।’
নেসকো রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘লোডশেডিং শুধু রংপুরেই নয়, এ সমস্যা সারাদেশব্যাপী। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে খুব দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি।’