
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে মোটর চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের সুরাই বিশ্বাসের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের মিলে মোটর চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা জজ আলীকে আটক করে মারধর করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে জজ আলী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার ভাতিজা মিজান বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, পাট্টা ও কসবামাঝাইল গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের পক্ষের জামিন বিশ্বাস নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার অভিযুক্তরা মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন।
মিজান বিশ্বাসের দাবি, আরিফ নামে জজ আলীর এক পরিচিত ব্যক্তি কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়।
তিনি বলেন, “আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কী হবে?”
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ভোর ৫টার দিকে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের মারধর না করার জন্য বলা হয়েছিল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে পুলিশ তাকে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।