
মুন্সীগঞ্জের প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার মানুষকে কলেরার ঝুঁকি মোকাবিলায় টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ৬৩টি অস্থায়ী ও ১টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেওয়া হবে।
তবে গর্ভবতী নারীসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই টিকা দেওয়া প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়া শিশুদের নিজ হাতে টিকা খাইয়ে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমসহ আরও অনেকে।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত দেশের ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রথম ধাপে সারাদেশে প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম রাউন্ডের টিকাদান চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকা দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম জানান, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজের মধ্যে অন্তত ১৪ দিনের ব্যবধান রাখা হবে।
তিনি বলেন, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে এই টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।