
এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে ক্যানসার আক্রান্ত সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় টাকা তুলে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সখীপুরের একদল শিক্ষার্থী। তাদের সেই উদ্যোগের খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে অসুস্থ লাইলী বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২ লাখ টাকার চেক লাইলী বেগমের পরিবারের হাতে তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
এ সময় তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য শিগগিরই আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
লাইলী বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা। অসচ্ছল এই পরিবারের পক্ষে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট এসএসসি পাসের পর নাঈমের সহপাঠীরা মিষ্টি না কিনে নিজেদের জমানো ২০ হাজার টাকা তার মায়ের চিকিৎসার জন্য তুলে দেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা আরও ২০ হাজার টাকা যোগ করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে শিক্ষার্থীরা বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় টাকা দিয়েছে—এই খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তিনি আমাকে লাইলী বেগমের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ ২ লাখ টাকা দেওয়া হলো, বাকি ৩ লাখ টাকাও দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সখীপুর-বাসাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন, সখীপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় শিক্ষার্থীদের এই ছোট্ট ত্যাগ এখন বড় মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। সখীপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, মানবিকতার ছোট্ট উদ্যোগও কখনো কখনো বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের জীবন।