ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৭১৯ কোটি টাকার শিল্পপার্কে গ্যাসের অপেক্ষায় ৮২৯ প্লট

৭১৯ কোটি টাকার শিল্পপার্কে গ্যাসের অপেক্ষায় ৮২৯ প্লট

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিপুল টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পপার্ক প্রায় ৪ বছরেও গ্যাস সংযোগ পায়নি। এতে শিল্পপার্কে ৮২৯টি প্লট বরাদ্দ পাওয়া দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে নতুন উন্নয়নের স্বপ্নও থমকে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিল্পপার্কের ৮২৯টি প্লটে গ্যাস সংযোগ নিতে ২০২২ সালের ২০ জুন পিজিসিএলের অনুকূলে ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জমা দেয় বিসিক।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পিজিসিএলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার ডন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড শিল্পপার্কের প্রধান ফটক পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে। তবে শিল্পপার্কের ভেতরে গ্যাস সরবরাহের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ আজও করা হয়নি।

এ কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সেইসঙ্গে চলমান গ্যাস-সংকটে উদ্যোক্তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

এ শিল্পপার্কে দেশীয় উদ্যোক্তাদের ২৭৯টি ও বিদেশি চীনা উদ্যোক্তাদের ৫৫০টি প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা ছিল। ১৩ আগস্ট ৫৫৭টি প্লট বরাদ্দের জন্য বিসিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির স্থায়ী সংযোগ না থাকায় উৎপাদনে যেতে পারছেন না।

দ্রুত গ্যাস সংযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠন। এছাড়া গ্যাসলাইন দ্রুত স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৪ এপ্রিল পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে তাগিদপত্র পাঠায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওই শিল্পপার্কে গ্যাস সংযোগে এখনও সাড়া মিলছে না।

এদিকে এ প্রকল্পে ২৭৫ একর জমিতে এ, বি ও এস—এই ৩ ক্যাটাগরিতে ৮২৯টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্লট ২০ হাজার বর্গফুট, ‘বি’ ক্যাটাগরির ১০ হাজার বর্গফুট এবং ‘এস’ ক্যাটাগরির প্লট ৬ থেকে ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের।

২ ধাপে ২৭২টি প্লট দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছে ইতিমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে। এ প্লটের মাটির কাজ, রাস্তা ও ড্রেন নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদ ও প্লটের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন।

এ প্রকল্প নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুদক ও বিসিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ২ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ জরিমানার টাকা আজও আদায় হয়নি।

এ প্রকল্পের কাজ ২০১০ সালের জুলাই মাসে শুরু করা হয় এবং ২০১৪ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরবর্তীতে ৭ দফা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং কয়েক দফায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকায়। ২০২৪ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখানো হলেও এখনো অসম্পূর্ণ।

উল্লেখ্য, যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে এ শিল্পপার্ক নির্মাণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক শিল্প উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, ‘জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবস্থা না থাকলে এখানে কেন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন? ব্যাংকও ঋণ দেবে না। দ্রুত গ্যাসলাইন স্থাপনসহ সব ধরনের সেবা নিশ্চিত না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তির টাকা কেউ জমা দেবেন না বলে এখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিজনিত কারণে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পরই সরকারের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে দ্রুত সংযোগ দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৮২৯ প্লট,গ্যাসের অপেক্ষা,শিল্পপার্ক,৭১৯ কোটি টাকা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত