ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদঘাটনের দাবি

রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদঘাটনের দাবি

রংপুরের বহুল আলোচিত চার খুনের ঘটনায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, অতীতে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জটিল ও আলোচিত বহু ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হলেও রংপুরের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ক্লু বা দৃশ্যমান অগ্রগতি সামনে আসেনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “হাজার হাজার মানুষ খুঁজে বের করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে, কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এগুলো আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো করতে পেরেছে। কিন্তু রংপুরে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটলো, আজও এর কোনো ক্লু বের করা গেল না। বিভিন্ন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা নিহত চারজনের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রংপুরে সংঘটিত চার খুনের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়ে আসছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার ৬ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এই সময়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ খুনের ঘটনা ঘটেছে। জনদুর্ভোগের শেষ নেই। উত্তরবঙ্গে সারের সংকট চলছে, বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং চরমে উঠেছে। গ্যাস-জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। সব কিছুর দায় সরকারের। সরকারের উচিত জনদুর্ভোগের দিকে নজর দেওয়া ও জনজীবনকে স্বস্তি ও স্বাভাবিক করে দেওয়া।

দলীয়করণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বে যারা এসেছেন তারা দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেন নাই। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, দেশের ৮টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বিএনপি দলীয় লোকজনকে পদায়ন করেছে। আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচন দেন, এতে দলীয় লোকজন নির্বাচিত হয়ে আসলে আসবে। স্লোগান দেন সবার আগে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত বলে সবার আগে বিএনপি।

দলীয় এমপিদের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকে। আমাকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে। বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। প্রশাসন চালাতে গিয়ে তারা এমন শাসন চালাচ্ছে, সেই এলাকার নির্বাচিত এমপি দায়িত্ব পালনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিরা কোনো নির্দিষ্ট আসনের এমপি নন। সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন, বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচিত এমপির। বর্তমান সরকার অতীতের সকল রেওয়াজ ভঙ্গ করে দলীয় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন আসন তদারকির জন্য ভাগ করে দিয়েছে। এটি কি বেআইনি কাজ নয়। তাদের মাধ্যমে নিজ এলাকার উন্নয়ন, বরাদ্দ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করান। একটি নির্বাচিত এমপির উপরে শাসন করার জন্য একটি অনির্বাচিত এমপিকে খবরদারির জন্য পাঠাবেন। এমনটাই যদি চান তাহলে বিরোধী দলের মহিলা সংসদ সদস্যকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের আসনে তদারকির দায়িত্ব দেন।

গণরায় নিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রধান নির্বাচনের আগে এসে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকার প্রধান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন নাই। আমরা ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আগামীতে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সামসুল আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রহস্য উদঘাটনের দাবি,চাঞ্চল্যকর ৪ খুন,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত