ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুলাউড়ায় আহত ১০, গ্রেপ্তার ৫

এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুলাউড়ায় আহত ১০, গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহতরা কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া। অন্য চারজন হলেন এনসিপি নেতা তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়া।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহত এনসিপি নেতা ও জেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তামিম আহমদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বাদী তামিম আহমদের অভিযোগ, এনসিপির পদ দেওয়ার কথা বলে এহসান জাকারিয়াসহ আসামিরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা যাওয়ার পথে কুলাউড়ার উত্তর বাজার এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা চালান।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এনসিপির জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদসহ কয়েকজন নেতা মৌলভীবাজার সদর থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। তারা কুলাউড়া উত্তর বাজারের রেলক্রসিংয়ের কাছে একটি হোটেলের সামনে পৌঁছালে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এ সময় দলীয় প্রতিপক্ষ জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ তাঁদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন।

হামলায় তামিম আহমদ, সাফওয়ানসহ আটজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এদিকে, তামিম আহমদসহ তাঁর গ্রুপের কয়েকজনকে দলীয় কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে এহসান জাকারিয়া পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে হামলা চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এহসান জাকারিয়াকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, এর আগে এই চক্র কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে মৌলভীবাজারে হামলা করেছিল। পরবর্তী সময়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ অন্যদের ওপর হামলার পর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ তাঁদের মামলা নেয়নি। তাঁরা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মামলার বাদী তামিম আহমদ বলেন, এহসান জাকারিয়া এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতার ‘সোর্স’ হিসেবে বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবি দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতেন। একইভাবে তাঁরসহ কয়েকজনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে মৌলভীবাজারের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে বড়লেখায় পৌঁছে দিতে কুলাউড়ায় এলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, এনসিপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ৫,আহত ১০,কুলাউড়া
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত