ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভূঞাপুরে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে সাত গ্রামের মানুষ

ভূঞাপুরে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে সাত গ্রামের মানুষ

টাঙ্গাইলের যমুনার শাখা নদী ভূঞাপুরের লৌহজং নদীর ওপর সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট্ট একটি খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। সংযোগ সেতু না থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লৌহজং নদীর উত্তর পাশের রামপুর, গোপিনাথপুর, রায়ের বাসালিয়া, খন্দকার পাড়া, ভূইয়া পাড়াসহ সাত গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জুয়াদ আলী মোড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার শাখা নদী লৌহজং। নদীর উত্তর পাশে রামপুর, গোপিনাথপুর, রায়ের বাসালিয়া, খন্দকার পাড়া, ভূইয়া পাড়াসহ সাতটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। শাখা নদীটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর ওপর নেই কোনো সংযোগ সেতু। ফলে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছোট্ট একটি খেয়া নৌকা।

প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হন। অনেক সময় পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় পরিবারের সদস্যদের। রাতের বেলায় অনেক সময় নৌকায় মাঝি না থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাঁতরে পার হন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুর অভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারেন না। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যান বর ও কনে পক্ষের লোকজন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করতে না পারায় আত্মীয়তার সম্পর্কেও ফাটল ধরে।

স্থানীয় কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। নৌকায় পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দীন ও বশির মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা খেয়া নৌকায় উপজেলা শহর ও হাটবাজারে যাতায়াত করেন। নৌকায় ফসল পারাপার করতে তাদের খুব কষ্ট হয়। এছাড়া তাদের সন্তানরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকাটিই তাদের একমাত্র ভরসা। এখানে একটি সেতু হলে তাদের আর কষ্ট থাকবে না।

খন্দকার পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, হানিফ আলী ও বাদশা মিয়া জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় তাদের সঙ্গে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়। সময়মতো তারা হাসপাতালে যেতে পারেন না। নৌকায় পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন তাদের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও নারীরা।

তারা আরও জানান, সেতু হলে তাদের সন্তানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, এলাকাবাসী কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন এবং সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে। স্থানীয়দের ভোগান্তিরও নিরসন ঘটবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান জানান, তারা সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। এখানে একটি সেতু খুব দরকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাত গ্রামের মানুষ,চরম দুর্ভোগ,ভূঞাপুর,সেতু
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত