ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গাইবান্ধায় প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ

গাইবান্ধায় প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ

‘উন্নত প্রযুক্তির’ নামে বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে গাইবান্ধায় প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার চালুর পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও কারিগরি জটিলতার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মিটার নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানিরও শিকার হতে হচ্ছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রতিরোধ কমিটি ও বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি, গাইবান্ধা জেলা শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক ওয়াজিউর রহমান রাফেল, গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদজামান রব্বানী, কমিউনিস্ট নেতা রেবতী মোহন বর্মন, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন, নাট্যকর্মী শাহ আলম বাবলু, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক, এ.কে.এম মনির হোসেন সুইট, কাজী আব্দুল খালেক, আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী ও রবিদাস ফোরামের খিলন রবিদাস প্রমুখ।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও এর সুফল সাধারণ গ্রাহকরা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ধরনের চার্জ, মিটার-সংক্রান্ত জটিলতা ও রিচার্জ ব্যবস্থার কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

তাদের দাবি, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা। এ সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন অযথা আর্থিক চাপ ও হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তারা আরও বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো গ্রাহকের মিটার বিকল হলে কিংবা রিচার্জ-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে শুধু আধুনিকায়নের নামে পরিচালনা করলেই হবে না; এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য ও অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ও ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কোথাও অতিরিক্ত বিল, আবার কোথাও মিটার নিয়ে জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যার টেকসই সমাধান না করে নতুন প্রযুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হলে তা গ্রাহকবান্ধব হবে না।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা গ্রাহক শোষণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধ, চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হলে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও হয়রানি সৃষ্টি করে কোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। প্রিপেইড মিটারসহ বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিবাদ,মিটার বাতিলের দাবি,প্রিপেইড মিটার,গাইবান্ধা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত