
সিরাজগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ভ্যানচালক শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর রওশন ইয়াজদানি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাজিপুর উপজেলার কুমারিয়া বাড়ি গ্রামের শিবলু, লাল মিয়া, সুরুজ আলী ও হারুন অর-রশিদ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালে কাজিপুর উপজেলার ওই গ্রামের সিরাজ আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুনের সঙ্গে পাশের জামালপুরের বনগ্রাম গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাহজাহান আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর শিরিনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পরবর্তীতে শিরিনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নিতে গেলে আসামিদের কুপরামর্শে শিরিনার মা-বাবা তাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বাধা দেন। এর কিছুদিন পর শাহজাহান আলী স্ত্রীকে আনতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ির কথায় তিনি ঘরজামাই হিসেবে থাকতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে আসামি হারুন ও শিবলু নিয়মিত তার শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। এতে শাহজাহান আলী নিষেধ করলে আসামিরা তাকে মারপিট ও হত্যার হুমকি দেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর শাহজাহান আলী বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন শ্বশুরবাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেন।