ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চাঁদপুরে আড়াই মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশ

চাঁদপুরে আড়াই মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশ

চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। তবে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ ধরা না পড়ায় নদীতে যেমন হতাশা, তেমনি বাজারেও স্বস্তি নেই। জেলার মতলব উত্তরের বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ।

বর্তমানে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ একই টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ আলু। এতে ইলিশ সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় ক্রমেই বিলাসী পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ, একলাশপুর ও বাবুবাজারের মৎস্য আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম বেশ চড়া। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে।

আমিরাবাদ আড়তের ব্যবসায়ী জুয়েলমীর বলেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়াই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। আড়তে মাছের পরিমাণ কম থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। ফলে সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় এর প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

তবে শুধু বাজারেই নয়, নদীতেও ইলিশ সংকটের চিত্র স্পষ্ট। জেলেদের ভাষ্য, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করেও জালে আশানুরূপ মাছ উঠছে না। অথচ মাছ ধরতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ ও খাবারের পেছনে প্রতিদিনই বাড়ছে খরচ।

ষাটনল জেলে পাড়ার জেলে টিটু বর্মন ও লক্ষ্মণ বর্মন বলেন, “নদীতে মাছ না থাকলে আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। জাল ফেলতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটাও ওঠে না। মাছ পেলে সংসার চলে, না পেলে ধারদেনা করতে হয়। কিস্তি আর মহাজনদের ঋণের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারতাছি না। ছেলে সন্তানদের নিয়ে খুব অভাবে আছি।”

ক্রেতাদের অভিযোগ, ইলিশের দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই এখন ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আনোয়ার হাবিব নামে এক ক্রেতা বলেন, “এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার ওপরে হয়, তাহলে পরিবারে ইলিশ খাওয়ানো কঠিন। একই টাকায় অনেক কেজি আলু বা অন্য মাছ কেনা যায়।”

মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেই বাজারে দাম কমতে পারে। তবে কখন ইলিশের সরবরাহ বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তারা।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক কেজি ইলিশ,আড়াই মণ আলু,চাঁদপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত