ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেডিয়াম মার্কেটে ৩৭ দোকানে তালা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেডিয়াম মার্কেটে ৩৭ দোকানে তালা

চুক্তি নবায়ন নিয়ে জটিলতার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়াম মার্কেটের ৩৭টি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত জামানত দাবির ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীসহ প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন স্টেডিয়াম মার্কেটের ৩৭টি দোকান ২০০১ সালে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জামানত এবং মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়ায় চুক্তির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসায়ীরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন।

চলতি বছরের ২৪ আগস্ট ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পাঠানো দুই দফা চিঠিতে প্রতিটি দোকানের জামানত আরও ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন শর্তে চুক্তি নবায়নের জন্য জানানো হয়। এ নিয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জামানতে বরাদ্দ নেওয়া দোকানের জন্য আবারও জামানত দাবি এবং ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি তাদের কাছে বোধগম্য নয়। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভাড়া ও জামানত বাড়ানো হলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ও বরাদ্দ দলিলের শর্ত লঙ্ঘন করে এবং কোনো ধরনের শুনানির সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে সিদ্ধান্তটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে মার্কেটের বরাদ্দগ্রহীতা জাকিয়া সুলতানাসহ ব্যবসায়ীরা হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং-১৩৬৮৭/২০২৬) দায়ের করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার জারি করা উভয় আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্টেডিয়াম মার্কেট দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রসহ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে তারা কোনো অফিসিয়াল চিঠি পাননি। মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দুই দফা চুক্তি নবায়নের জন্য জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেননি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩৭ দোকানে তালা,স্টেডিয়াম মার্কেট,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত