
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর, হেনস্তা ও কথিত মাদক প্রদর্শনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় স্বউদ্যোগে (সুয়োমোটো) আইনি পদক্ষেপ নিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজারে একটি মুদিদোকানে বসে থাকা সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজীকে কয়েকজন তরুণ ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ বস্তু দেখা যায় এবং ওই তরুণরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক তা প্রদর্শন করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিগত নাগরিকের সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটক করার এখতিয়ার নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় ওই প্রবীণ ব্যক্তির দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের সন্দেহে বেআইনিভাবে আটক করে মারধর করা মব কালচারের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
ঘটনায় অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা এবং সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল, চাঁদপুর)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হাতে আটক ওই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা একই সময়ের মধ্যে জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছেন, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মব কালচার ও কিশোর গ্যাংয়ের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ প্রয়োজন।