
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সিরাজগঞ্জের মাটিতে থাকা তাঁর নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হননি।
শনিবার বিকেলে সরকারি ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি ও জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আয়োজনে দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরই যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত মূল্যে তেল ও গ্যাস কিনে এনে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। তবে গ্যাস খালাস ও বিতরণের একটি যন্ত্রে আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে দেওয়া একটি বক্তব্যে তিনি বিএনপি-জামায়াতের পরিবর্তে ‘আওয়ামী-জামায়াত’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাঁর নেতাকর্মীদের বাড়িতে অত্যাচার করেছে। অন্যায়-অত্যাচারের পাল্লা যখন ভারী হয়েছিল, তখনই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। তিনি জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগ ও আত্মনিবেদিত সন্তানদের লাল সালাম জানান। এসব সন্তান বাংলাদেশকে একটি নতুন বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে সিরাজগঞ্জে মেয়র নির্বাচন করা ব্যক্তিই বিএনপির প্রার্থী হবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমিরুল ইসলাম খান আলিম এমপি, সেলিম রেজা এমপি, আয়নুল হক এমপি, সাবেক এমপি আকবর আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিএনপি নেতা ভিপি শামিম খান, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, অমর কৃষ্ণ দাস, মকবুল হোসেন চৌধুরী, মুন্সি জাহেদ আলম, আবু সাঈদ সুইট, হারুনর রশীদ খান হাসান, আলামিন খান, মুরাদুজ্জামান মুরাদ, সেরাজুল ইসলাম সেরাজসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।